Saturday, December 23, 2017

তোতনের জোৎস্নাদি-র জন্য *

কিছু দিন থাকে, কিছু ঋণ থাকে,
ভুলে যাই অনায়াসে,
অক্ষম স্মৃতি, সময়ের গতি,
আর নিষ্ফল অভ্যাসে।
বারে বারে ভুলি, গত দিনগুলি,
স্মৃতিগুলি যায় চুরি,
জাতিস্মরের পুনর্জন্ম,
তোর লেখা যেই পড়ি।
প্রশংসা করি, স্পর্ধা সে নেই,
প্রতিবারে জমে বিস্ময়,
ইতিহাস উঠে আসে, আর সাথে,
ইতিহাস সৃষ্টি হয়।।

Thursday, November 9, 2017

শুভ দা *


একটা শুকনো গাছ,
তার ছড়ানো শুকনো ডাল মেলে দাঁড়িয়ে ছিল অনেকগুলো বছর।
ক্লান্ত পাখির দল কখনো উড়ে এসে জুড়ে বসতো সেই ডালে,
কেউ একটু বিশ্রাম নিতে,
কেউবা আবার ঠোঁটে করে ডাল ভেঙে নিয়ে যেত নানা কাজে অকাজে।
নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া পারতপক্ষে কেউই আসত না গাছ তলায়।
কারণ প্রখর রোদেও কোনো ছায়া ছিল না গাছটার,
নববর্ষার ধারা জাগাত না কোনো শিহরণ,
নববসন্তের স্পর্শেও ঘটেনি  কখনো নব মুকুলের সঞ্চার।
তারপর একদিন হটাৎ কারা যেন একটা অন্য গাছ,
ওই শুকনো গাছটার পাশে পুঁতে দিয়ে গেল।
নতুন গাছটার স্পর্শ, গন্ধ, সান্নিধ্য ঘটাল এক অদ্ভুত ম্যাজিক,
তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরে একদিন পল্লবিত হল সেই শুকনো ডালগুলো,
গ্রীষ্মের দাবদাহকে তুচ্ছ করে সেদিন একসাথে এল বরষা ও বসন্ত,
বহু বিস্মিত চোখের ভ্রুকুটি ও প্রশয়ে নানা লতাগুল্মে একসাথে জড়িয়ে গেল দুটো গাছ,
সব ঋতুতে একে অপরকে ছায়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
তারপর,
জাগল এক নতুন আশা, নতুন প্রান, নবচেতনার নতুন গান।
জীবন এগোলো স্বপ্নের মত, মুছে দিল সব জমানো ক্ষত।
চোখে চোখে হোক শপথ আবার, পুরনো ভুল হবেনা তো আর।
তিনে মিলে হোক এক পৃথিবী, উঠুক গড়ে সুখের পাহাড়।

Sunday, October 8, 2017

তোতোনের জন্য *




সময়ের সাথে বদলায় কত চিরপরিচিত মুখ,
সময়ের হাতে বদলাতে থাকে চেনা দু:খ সুখ।
বহুদিন আগে পাশাপাশি থাকা দুই ফালি ইস্পাত,
তারাও বদলে যায় ধীরে ধীরে, পাল্টায় তারা জাত।
এক খানা ফালি পেয়ে কিছু কিছু ল্যাদ খেয়ে যায় শুধু,
সময়ের সাথে জং ধরে বুকে, বিষ খেয়ে ভাবে মধু।
আরেক ফালি লড়াই চালায়, রোজ দিয়ে চলে শান,
চকচকে হয়,ঝকঝকে হয়, নবরুপে জাগে প্রান।
প্রতিভা ক্রমশ প্রতিভাত হয়, দশের মধ্যে এক,
শিল্প কখন হয়ে ওঠে, তার আনমনে কাটা আক।
অন্য ফালিটা, দেখে আর ভাবে,বুক ভরে যেন ঈর্ষায়,
পারবে না জানে, তবু ওরকম হতে কেন তার মন চায়?
তবে কি ঈর্ষা নাকি তার বুকে জমে তিলে তিলে গর্ব?
বলে মনে মনে, লিখে চল তুই, আমি শ্রদ্ধায় পড়ব।

Wednesday, September 13, 2017

স্বপ্নপূরণ

.
সূর্য সবে দিচ্ছে উকি,
ছোট্ট দুছোখ ঘুমেই ভারী,
মা এর স্বপ্ন করতে পূরন,
সেই ছেলেটার স্বপ্নে দাড়ি।

প্রথম তাকে হতেই হবে,
ব্যর্থ বাকি প্রথম দশ,
খাতার পাতার নম্বরেতেই,
লুকিয়ে খ্যাতি, লুকিয়ে  যশ।

পড়তে হবে, লিখতে হবে,
শিখতে হবে সাঁতার, গান,
আঁকতে হবে ভীষণ ভাল,
চালতে হবে দাবার দান।

বহুমাত্রিক সিঁড়ি ধাপে,
বহু বাধার জবর ধাঁধা
ছোট্ট মাথা জবাব খোজে,
অভ্যেস হয় মগজ সাধা।

ধাঁধা

_------------------_-------------_----–

এই যে আছি, এই যে বাঁচি,
এই যে সবাই স্বপ্ন দেখি
কেউ কেউ কেন ভাবতে থাকে
এটাই ধ্রুব সত্য
ভবিষ্যতেই বাঁচছে জীবন
সব হারিয়ে স্বপ্নপূরন
মরিচিকা কেন আজ ধ্রুবতারা,
এটাই ধাঁধা মস্ত!

হেরোর কথা *


হেরোর দলে নাম লিখিয়ে
হারছি বারে বারে,
শুন্য হাতে ফিরতে তবু,
মনটা কেমন করে।
পারব না আর  হচ্ছে না আর,
বৃত্তে পরে আটকা,
জীবন কোথায় ফেলবে ছুড়ে,
খেলছি যে সেই ফাটকা!
ধরতে গেলেই গড়িয়ে গেছে,
শক্ত মুঠোর ফাঁকে,
অনিচ্ছাতেও খোলা হাতে তাই
রেখেছি ভাগ্যটাকে।
হাসার ছলে কান্না ভুলে,
ঘোচাই অভিমান,
সুুখের মূল্য,ভীষণ বেশি,
সময় মাপছেে দাম।
নানা ভাবে নানা সময়,
নিভছে আশার আলো,
হারছি তবু, এই খেলাটাই,
বাসছি রোজই ভাল।

Sunday, July 9, 2017

ছলনা *

ভিজছে রোদ, অন্ধ বোধ,
মেঘের পাতায় পড়ুক তীর,
বুলস আই, শুধুই চাই,
ভেজাল দুধে জমুক ক্ষীর,
সারা দুনিয়া ঘুরে, পাড়ার মোড়ে ফিরে,
আবার খুজি যাবার ছল,
হাতের ফাকে, জীবন বাঁকে
ফস্কে যাচ্ছে লোপ্পা বল,
যে মন বলে আড়ি,ভীষণ তাড়াতাড়ি,
তার ই কাছে হই বিসর্জন।
যে জন বহুদুরে, মিথ্যে মরে ঘুরে,
সেই হয়ে গেল আপনজন।