Thursday, November 9, 2017

শুভ দা *


একটা শুকনো গাছ,
তার ছড়ানো শুকনো ডাল মেলে দাঁড়িয়ে ছিল অনেকগুলো বছর।
ক্লান্ত পাখির দল কখনো উড়ে এসে জুড়ে বসতো সেই ডালে,
কেউ একটু বিশ্রাম নিতে,
কেউবা আবার ঠোঁটে করে ডাল ভেঙে নিয়ে যেত নানা কাজে অকাজে।
নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া পারতপক্ষে কেউই আসত না গাছ তলায়।
কারণ প্রখর রোদেও কোনো ছায়া ছিল না গাছটার,
নববর্ষার ধারা জাগাত না কোনো শিহরণ,
নববসন্তের স্পর্শেও ঘটেনি  কখনো নব মুকুলের সঞ্চার।
তারপর একদিন হটাৎ কারা যেন একটা অন্য গাছ,
ওই শুকনো গাছটার পাশে পুঁতে দিয়ে গেল।
নতুন গাছটার স্পর্শ, গন্ধ, সান্নিধ্য ঘটাল এক অদ্ভুত ম্যাজিক,
তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরে একদিন পল্লবিত হল সেই শুকনো ডালগুলো,
গ্রীষ্মের দাবদাহকে তুচ্ছ করে সেদিন একসাথে এল বরষা ও বসন্ত,
বহু বিস্মিত চোখের ভ্রুকুটি ও প্রশয়ে নানা লতাগুল্মে একসাথে জড়িয়ে গেল দুটো গাছ,
সব ঋতুতে একে অপরকে ছায়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
তারপর,
জাগল এক নতুন আশা, নতুন প্রান, নবচেতনার নতুন গান।
জীবন এগোলো স্বপ্নের মত, মুছে দিল সব জমানো ক্ষত।
চোখে চোখে হোক শপথ আবার, পুরনো ভুল হবেনা তো আর।
তিনে মিলে হোক এক পৃথিবী, উঠুক গড়ে সুখের পাহাড়।

No comments: