Saturday, August 15, 2020

ঋণ

কিছু কিছু সময় আসে যখন,
চুপ থাকা টাই বুদ্ধিমানের কাজ,
নির্বোধে কি মানবে সে কথা,
তাকে কিছুতো বলতেই হবে আজ।

ব্যাগের ভিতর বিশেষণের টান,
যা আছে তা নেহাতই অপ্রতুল,
সুদটুকুই মেটানো দুষ্কর,
স্পর্শ করা যায় না তাতে মূল।

সবের মতই জ্ঞানের বহর কম,
বোঝে না ফারাক ইমনে কল্যাণে,
আল্লারাখা জাগান যে বিস্ময়,
মুগ্ধ তেমন ভীমসেনেরও গানে।

সাধ্য কি তার করবে মূল্যায়ণ,
কেমন করে বোঝাবে মুগ্ধবোধ,
ঋণ যা বাকি মানুষগুলির কাছে,
কোন মন্ত্রে করবে সে তা শোধ।

মানুষগুলো ( ভাই এর দিদি) শুধুই দিতে জানে,
ভালোবাসা আর প্রশংসা অকৃত্রিম,
সাদা কালো শুধুই ভরা  জীবন,
শব্দ তুলির ছোঁয়ায় করে রঙিন।

Thursday, July 2, 2020

সুশান্ত

এই কবিতাটা সুশান্ত সিং রাজপুত এর জন্য লেখা। সুশান্ত সিং রাজপুত, প্রানোচ্ছাসে ভরা এক চলচ্চিত্র অভিনেতা, যার নেশা ছিল আকাশের তারা দেখা, সেই সুশান্ত সিং এর জন্য। খ্যাতির চূড়ায় দাড়িয়ে, মানসিক অবসাদের চাপে সে বেছে নিয়েছিল আত্মহননের পথ। কিন্তু রেখে গিয়েছিল একরাশ প্রশ্ন।

**********************************

বুকের ভিতর ডানা ঝাপ্টায়,
না বলা কথার ব্যাথা,
ছাদের পাঁচিলে শ্যাওলার রং,
এঁকে নেয় কথকতা। 
বিষন্ন আলো, বেসেছিল ভালো,
বেসুরে বেজেছে গান,
মৃত্যু এসে, জীবনের শেষে,
মুছে দেয় অভিমান।
আঙ্গুলের ফাঁকে, শুধু লেগে থাকে,
মূহুর্ত যা গেছে উপচে,
মুঠো ভরা খালি, সময়ের বালি,
স্মৃতিরা চিতায় জ্বলছে।
মুখোশের হাসি, হয় না যে বাসি,
অভিনয় চলে প্রতিদিন,
দুচোখের জল, নেহাৎই অচল,
ঈশ্বর তার শ্রুতিহীন।
জানলার কাঁচে, কালোছায়া নাচে,
রাস্তার আলো ফ্যাকাসে, 
আঁধারেতে যারা, একা দেখে তারা,
মন খারাপের আকাশে।
সব কিছু শেষে, কেউ নেই পাশে,
চোখ আসে ঘুমে বুজে,
তারা নেভে একা, ঘুরে চলে চাকা 
অন্য কারুর খোঁজে।




Tuesday, June 30, 2020

অজয় নদী

ভাগ্য জয়ের ছদ্ম প্রয়াসে,
কেউ বা শহরে, কেউ পরবাসে,
যন্ত্র জীবনে দিন যায় আসে,
কখনও ফেরে না সময়।
স্মৃতিগুলো বৃথা করে আনাগোনা, 
 পথ ভুলে গেছি, সেদিনের চেনা,
ফিরে যেতে তাই করি দোনামনা,
তবু, একাই বইছে অজয়।।

Sunday, May 10, 2020

আঠেরো তে পা

বাবার একটা সূর্য ছিল,
মনের কোণে স্বপ্ন শত,
ছোট্ট ছেলে নিজের তেজে,
কবির মতো হবেই খ্যাত।

মায়ের কোলের ছোট্ট সোনু,
বোঝেনি কেউ ধর্ম'রে তোর,
সোনার মত দেখতে হলেও,
আসলে তুই পরশপাথর।

দাদুর কাছে তিন বছরের,
স্কুল থেকে তুই ফিরতি ঘরে,
এখনও দাদু আঁকতে থাকে,
সে ছবিটাই বারে বারে।

ছোট্ট দাদার হাত ধরে যার,
ছোট্ট পায়ে হাঁটতে শেখা,
বাড়তে থাকা দাদার ছায়ায়,
তারও শুরু স্বপ্ন  দেখা।

দিদার ছিল বাবুই পাখি,
ফুরুৎ করে উড়ত ঘরে,
সেই পাখিটা ঈগল সমান,
নীল আকাশে একলা ওড়ে।

সেই ছেলেটা আঠেরো আজ,
আকাশ তাকে দিচ্ছে ডাক,
ঝড়ের সাথে লড়াই করে,
বারেবারে তুই জিততে থাক।

Sunday, April 5, 2020

মহামারী

বসন্ত হসন্তের মত নগন্য আজ,
আছে কিন্তু নেই বা না থাকলেও হতো, আজকের এই নেই রাজ্যে।
আজ ফেসবুক জুড়ে পলাশের ছবি নেই,
সন্ধ্যের বাজারে চৈত্রসেলের ভিড় নেই,
শিল্পের প্রদর্শনী নেই, থেমে আছে শিলএর চাকা।
হঠাৎই কত লোকের চাকরি নেই,
রাস্তাঘাটে যানবাহন নেই, নেই স্টেশনে যাত্রীর ভিড়।
নেই ওষুধ, নেই খাদ্য, নেই শিক্ষার আবাহন,
নেই নেতাদের প্রতিশ্রুতি  আর ধর্মের বিশ্বাস।
আর কিছুদিন পরে, আমরাও অনেকে নেই হয়ে যাব।
সবাই অপেক্ষায় আছে ঢেউয়ের প্রথম ধাক্কার।
একে একে সে, ও, অমুক - তারপর নাম নয়,
ক্রমিকেই হবে পরিচয়,
এগারো, উনিশ , একত্রিশ,
ধীরে ধীরে সংখ্যাও নগন্য হয়ে যাবে।
যে ভাবে মিছিলের ব্যাপ্তিতে ম্লান হয়ে যায় জনৈক উপস্থিতি।

ভালোভাবে বাঁচা নয়, শুধু বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতায়,
নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে যাব ক্রমাগত, করুণ অবিশ্বাসে।

সামাজিক দূরত্বে বিবর্তিত হবে সামাজিক স্থিতি,
মুছে যাবে দেশ, বর্ণ, ধর্ম, বিত্তের সীমারেখা,
জীবনের বিনিময়ে অন্তেবাসী প্রাণোচ্ছাসে প্লাবিত হবে পৃথিবী।

তারপর বর্ষার আগমনে হয়তো বা পাল্টাবে পাশার দান,
বিবর্ণ প্রানের মাঝে জাগবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস,
যেভাবে দাবানলের ভষ্মস্তূপে মাথা তোলে সবুজ,
যুদ্ধের গ্লানি পেরিয়ে বেজে ওঠে জীবনের সঙ্গীত।

Thursday, March 26, 2020

সময়

সবাই যখন চাইছে হতে বড়,
আমি তখন কোণ খুজি সেই ভিড়ে,
সবাই যখন এগিয়ে যেতে চায়,
চাইছি আমি,সময় চলুক ধীরে।

যখন আমার অলস বেলা কাটে,
সময় তখন বেজায় অবাধ্য,
ঘাড় গুজে এক কোনে বসে থাকে,
নড়ায় তাকে নেই কারো সাধ্য।

আবার যখন ফুরসৎ নেই হাতে,
সময় ঘড়ি পাল তুলে দেয় ছুট,
ঘন্টা তখন মিনিটকে দেয় টেক্কা,
ভবিষ্যৎ মুহুর্তে হয় ভূত।

অনেকখানি খুশির চোরাবালি,
করছে যখন আমার সময় গ্রাস,
হটাৎ করে মৌতাতে দেয় বাঁধা,
দুঃসময়ের দারুণ অভিশাপ।

বছর পেরোয়, বড় না হয়ে বুড়ো,
দেহের বয়স না চাইতে যায় বেড়ে,
ছোট্ট হয়ে থাকব, হোক না স্থবির দেহ,
যাচ্ছে যে যাক, যাকগে আমায় ছেড়ে।

বিজয়

এইতো এখন বিকেলবেলা,
অফিস থেকে ফেরার পরে,
চায়ের কাপ আর একলা আমি,
আমার সাথে একলা  ঘরে।
খুঁজছি তোমায়, পাইনা তবু,
ঘরে কিংবা ফোনের পাশে,
শীতঘুমেতে হারিয়ে আছো,
পলাশ ঘেরা ফাগুন মাসে।
এখানে এখন বরফ পড়ে,
শীর্ণ গাছের ক্লান্ত প্রাণ,
ওখানে বোধহয় আমের মুকুল,
ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি ঘ্রাণ।
আজ না হোক, পেরিয়ে কদিন,
বসন্ত ঠিক আসবে ফিরে,
ভরসা রাখি, এলোমেলো পথ,
পেরিয়ে তুমি ফিরবে ঘরে।