Wednesday, June 10, 2015

সত্যি কি?

বিছানার ওপর হাটু মুড়ে বসে কুট্টিমামা বললো - "দিদি, চা টা একটু কড়া করে করিস | "
"সাথে বিস্কুট দেব না অমলেট করে দেব ?" - মা বললো রান্নাঘর থেকে |
"আজ শনিবার তো , ছেড়ে দে, ডিম খাব না, তুই বরং রান্নাটা ঝট করে চাপিয়ে দে | খেয়ে উঠে শুয়ে পড়ব |"
বলেই আমার দিকে তাকিয়ে মামা বললো - "কিরে দীপ, পড়াশুনা কেমন চলছে ? "
আমি অনেকটা ঘাড় নেড়ে বললাম , "ওই চলছে আর কি ! তোমার শরীর কেমন আছে? কি রকম শুকনো শুকনো লাগছে তোমার চোখ মুখ |"
মামা হেসে চেচিয়ে বলে উঠলো - "দিদি, তোর ছেলেতো বড় হয়ে গেলরে, আমাকে জিজ্ঞাসা করছে আমার চোখ মুখ শুকনো কেন ? "

মা হেসে বললো - "কম বয়স হলো ওর? কিন্তু ভাই, তোকে সত্যি কেমন লাগছে |"
মামা একটু ঘাড় নেড়ে বললো , "হুমম ..গত দুদিন রাতেই ঘুমাতে পারি নি | তাই হয়তো |"

কুট্টি মামা ট্রেন এর ড্রাইভার , তাই চাকরিতে দিনরাত বলে কিছু নেই | কিন্তু যেটা আছে, সেটা হলো নানা অভিজ্ঞতার  অফুরন্ত গল্প |

মা চা দিয়ে চলে গেল, খানিক পরেই রান্নাঘর থেকে শিলবাটার আওয়াজ ভেসে এলো, আমি জানি মা পোস্ত বাটছে, মামার সব থেকে প্রিয় খাবার।

কুট্টি মামা চায়েতে একটা আয়েসী চুমুক দিয়ে বললো , "কিরে , পড়তে বসগে যা |তোর পরীক্ষা কবে?"
"সে দেরী আছে , পড়তে পরে যাব , আগে তুমি একটা গল্প বল না , বাবা অফিস থেকে ফেরার আগে পর্যন্ত |"

কুট্টি মামা খানিক ভেবে বললো "কিসের গল্প শুনবি বল ? ভূত , সাপ , চোর না পাগল ?"
"যা তুমি শোনাবে , আমার কোনো প্রায়োরিটি নেই |"
"তাহলে শোন্ - বছর খানেক আগের কথা ..মহালয়ার আগের দিন | মহালয়ার দিন তর্পন করব বলে ছুটি নেব, তাই সেদিন আমাকে অফিসে যেতেই হবে, দুজন ড্রাইভার ছুটিতে| কোনো রকমে বাড়ির পুজো সেরেই ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দৌড়ালাম "|

ও হ্যাঁ, বলে রাখি - আমাদের মামাবাড়িতে কালী মন্দির আছে | তার নিত্যপুজো কুট্টিমামাই করে বাড়িতে থাকলে, না হলে ছোটমামা  করে। আমার দাদু কুট্টিমামার কলেজে পড়ার সময়ে মারা যান, সংসারের চাহিদা বাধ্য করেছিল কুট্টিমামাকে চাকরিতে ঢুকতে | কিন্তু মা এর কাছে শোনা, কুট্টিমামা নাকি খুব ভালো ছাত্র ছিল, এখনো গ্রামের গরিব ছেলে মেয়েরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ফিসিক্স ও অঙ্ক বুঝতে আসে কুট্টি মামার কাছে|

"রাস্তায় টুনি-র সঙ্গে দেখা" - কুট্টি মামা বলে চলে| "টুনি ওই বছরই উচ্চ মাধ্যমিক দেবে, পড়াশোনায় ভালই কিন্তু সকাল বেলায় পড়া ছেড়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখে আমি ডাকলাম , তবু অদ্ভুত ভাবে আমার কথার কোনো সাড়া না দিয়ে মাথা নিচু করে পাশ দিয়ে বেড়িয়ে গেল| আমি একটু আশ্চর্য হলেও, ট্রেন ধরার তাড়াতে বেশি কিছু না ভেবে জোরে হাঁটা লাগলাম|
রাতে ফিরতে দেরি হয়ে গেল।
ব্যান্ডেল থেকে আর লাস্ট ট্রেন ধরা গেল না, একটা মালগাড়ীর চেনা ড্রাইভার পেয়ে ইঞ্জিনে উঠে গেলাম, আমাকে সোমড়ার লেভেল ক্রসিং এর আগে নামিয়ে দেবে এই শর্তে। এভাবেই রাত বিরেতে বাড়ি ফিরি উপায় না থাকলে। যথারীতি সোমড়ার লেভেল ক্রসিং এর আগে আমাকে নামিয়ে ট্রেনটা চলে গেল।ট্রেন চলে যাওয়ার পর আমি লাইন এর ওপর দিয়ে হাটা লাগালাম লেভেল ক্রসিং এর দিকে। অফিশিয়ালি ট্রেন ষ্টেশন এ দাঁড়াতে পারে না বলে এই কষ্টটুকু আমাকে করতে হয়। তাছাড়া লেভেল ক্রসিং এর থেকে হাটাপথে বাড়িও কাছে হয়।  অন্ধকারটা চোখে সয়ে যাওয়ায় আর টর্চ জ্বালাইনি। হটাৎ করে পায়ে একটা বলের মত কিছু লাগল, ডাব মনে করে হাতে করে লাইন থেকে ফেলে দেবার জন্য ঝুকে তুলতে গিয়ে চমকে উঠলাম, টর্চ জ্বালতেই দেখি একটা মেয়ের কাটা মুন্ডু, দুটো বিষন্ন চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। এ চোখ আমার ভীষণ চেনা। আমার গলা দিয়ে চিৎকার এর বদলে একটা বীভৎস জান্তব শব্দ বেরোলো। টুনির নিস্পলক কিন্তু বিষন্ন চোখ গুলো আমার সমস্ত চেতনাকে মুহুর্তের জন্য স্থবির করে দিয়েছিল। হুশ ফিরতেই দৌড় দিলাম গেটম্যানের কেবিনের দিকে। দরজার ফাঁক দিয়ে আসা হলুদ ম্যাড়মেড়ে আলোটার কাছে এসে পৌছালাম যখন, তখন আমার শরীরে একবিন্দু শক্তি অবশিষ্ট নেই। শুকনো ঘড়ঘড়ে গলায় গেটম্যান বলাইদাকে ডাকলাম, কিন্তু আমি নিজের গলা নিজেই চিনতে পারলাম না। 
তারপরের ঘটনাগুলো ঝড়ের গতিতে ঘটে গেল।  আমাকে জল দিয়ে খানিক ধাতস্থ করে বলাইদাই রেলপুলিস আর টুনির বাড়িতে খবর পাঠাল। ট্রেন ড্রাইভার পরিচয় ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ এর দৌলতে পুলিশি ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি পেলাম।টুনির মা এর বুকফাটা কান্নার মধ্যে যখন টুনির দেহের দুটো টুকরো বেধে নিয়ে গেল পোস্টমর্টেমের জন্য তখনও আমার চোখে ভাসছে ঠোঁটের কোণের রক্তমাখা ওই বিষন্ন চোখদুটোর নির্লিপ্ততা।

কবে মারা গেল রে টুনি, সুইসাইড করল? কি হয়েছিল? - চুপিসাড়ে কখন এসে সব শুনে মা প্রশ্ন করল।

একটা ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরেছিল, মা বাবার অমতে।
বাড়িতে সেদিন খুব বকাবকি করেছিল, সেই অভিমানেই হয়ত- কুট্টিমামা বলল।


আমি খানিক বিরক্ত হয়ে বললাম, এটা তো নেহাতই একটা ভয়ের গল্প, ভূত কোথায়?


মা বলল, অনেক হয়েছে, আর ভূতের গল্প শুনে কাজ নেই।

মামা বলল- নারে দিদি, পুরোটা শোন। টুনির অকস্মাৎ মৃত্যু গ্রামের পুজোর আনন্দ কিছুটা মাটি করে দিয়েছিল। বারোয়ারি পুজোটা নেহাতই নমঃ নমঃ করে সারা হল। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না, তাই  কদিন পরেই টুনিকে নিয়ে আলোচনা ও শোক ক্রমশ কমে এল। শুধু আমি অফিস যাবার পথে রোজ উঁকি দিয়ে যাই টুনিদের বাড়ির দিকে।

এর মধ্যে ঠিক করেছিলাম, আর ওভাবে লেভেল ক্রসিং এ নেমে আসব না।কিন্তু বিধি বাম। লক্ষীপুজোর দিন সেই আগের মত লাস্ট ট্রেন মিস করলাম, বাড়ি ফেরবার তাড়ায় আবার সেই মালগাড়ী, আবার সেই লেভেল ক্রসিং এর আগে নামা। তফাত শুধু আগের দিন ছিল নিকষ কালো অমাবস্যা আর সেদিন কোজাগরী পুর্নিমার চাঁদের আলোয় ভরে আছে চারদিক।মালগাড়িটা আমাকে নামিয়ে চলে যেতেই এক সর্বগ্রাসী শুন্যতা আমাকে জড়িয়ে ধরল আসন্ন শীতের হিমেল হাওয়ার মত।  পিছনের দিকেনা তাকিয়ে সোজা হাটা দিলাম। চাঁদের আলোর জন্য আর হাতের টর্চটা জ্বাললাম না।

যত লেভেল ক্রসিং এর দিকে এগোতে থাকলাম ততই মনে হতে লাগল কে যেন আমাকে পিছন থেকে লক্ষ করছে, একটা ভয় আমার চেতনাকে গ্রাস করল, কিন্তু এক প্রচন্ড কৌতুহলে একবারের জন্য ঘাড় ঘোরালাম। ঘাড় ঘোরাতেই দেখি, লাইন এর ঠিক পাশে, সেদিন যেখানে টুনির কাটা দেহখানা পড়েছিল, ঠিক সেই খানেই লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে বসে আছে টুনি। আর তার হাতে শাড়ির আঁচল জড়িয়ে আমাকে ডাকছে- কুট্টি দা, শোন না। 

ভয়, বিস্ময়, কৌতূহলের মিশ্র আবেশে আমি তখন স্থানুর মত দাঁড়িয়ে।
সময় যেন থমকে গেছে। আমার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যাচ্ছে ভয়ের হিমশীতল স্রোত। কপালে জমছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। চাঁদের আলোয় স্পষ্ট হচ্ছে টুনির গলার কাটা দাগটা। থ্যাতলানো ঘাড়ের ওপরে কাটা মুন্ডুটা যেন আলগা করে বসানো রয়েছে। আর সেই মাথার ঠোঁটের পাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে সরু রক্তের ধারা। দিনের আলোর মতো স্পষ্ট সব দেখতে পাচ্ছি আমি। কতক্ষণ ওভাবে দাড়িয়ে জানি না। একটু পরে  বুকের ভেতর গুমগুম করে একটা শব্দ হতে লাগল, ধীরে ধীরে সেই শব্দর তীব্রতা বাড়তে থাকল, খানিক পরেই বুঝতে পারলাম গুমগুম শব্দটা আমার বুকের ভিতর নয়, শব্দটা আসছে আমার পিছন থেকে, কোনো এক্সপ্রেস ট্রেন এর ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দ। কিন্তু টুনির ক্রমশঃ উজ্জ্বল হয়ে ওঠা চোখগুলো যেন আমাকে কোনো ভাবেই নড়তে দিচ্ছে না, বরং আমার নড়াচড়ার সামান্য চেষ্টায় টুনির বিষাদ মাখা চোখগুলো হিংস্র হয়ে উঠলো। ট্রেনের শব্দ ছাপিয়ে ঘড়ঘড়ে গলায় যেন টুনি আমাকে আদেশের স্বরে বলে উঠল - আয়, আমার কাছে আয়। আমি বুঝতে পারছি ট্রেনটা আমার খুব কাছে চলে এসেছে। আমার হাতে আর সময় নেই, মনে পড়ছে মা এর মুখ, বাবার ফটোটা। কিন্তু টুনির ওই হিংস্র চোখের আদেশ আমান্য করার কোনো ক্ষমতা তখন আমার নেই। আমি আস্তে আস্তে টুনির দিকে এগোলাম। টুনির শরীরী উপস্থিতি ক্রমশঃ অশরীরী হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিনের আলোর বন্যায়। শুধুই ভয়াল এক দুর্নিবার আকর্ষণে ছুটে  যেতে গিয়ে হটাৎ একটা হোঁচট খেয়ে উপুড় হয়ে লাইন এর ওপর  পড়ে গেলাম, হাতটা লাইন এ পড়তেই ঠাণ্ডা  লোহার  লাইন আর লাইন এর কাঁপুনি তে সম্বিৎ ফিরে এল, মুহুর্তের মধ্যে কোনরকমভাবে লাইন থেকে গড়িয়ে, পাশে ঝাঁপিয়ে পড়লাম,  ঘাড়ের পাশ দিয়ে ঝমঝম করতে করতে এক্সপ্রেস ট্রেনটা চলে গেল। উঠলাম যখন, তখন প্রচণ্ড ভয় কেটে গিয়ে ফিরে এসেছে যুক্তি ও সাহস, পাশে পড়ে থাকা ব্যাগ কুড়িয়ে কাঁধে নিলাম, টর্চটা কুড়িয়ে একটু হাতে ঠুকতেই জ্বলে উঠল। একবার বুক ভরে নিশ্বাস নিয়ে চার ব্যাটারির  টর্চটা ঘোরালাম সেই দিকে, একটু আগেই যেখানে আমি টুনিকে বসে থাকতে দেখেছিলাম। যা দেখলাম, নিজেকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। ঠিক যেখানে টুনিকে দেখেছিলাম, ঠিক তার পাশেই একটা ঝোপ, ঝোপের ওপর জড়িয়ে রয়েছে একটা লাল পাড় সাদা শাড়ি। যেন কেউ হাতে আঁচল জড়িয়ে বসে আছে। ওটাকেই কি আমি ভুল করে টুনি ভেবেছিলাম? আর দেরি না করে দৌড়ে গেটম্যানের কেবিনে গেলাম। বলাইদা শোয়ার তোড়জোড় করছিল, গায়ে কাদামাখা, উষ্কখুষ্ক চুল দেখে বলাইদা ছুটে এল। একটু সময় নিয়ে সব কথা বললাম। বলাইদা আমাকে রাতে বলাইদার কাছে থেকে যেতে বলল। কিন্তু অপেক্ষা না করে বলাইদার সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। সেদিন রাতেই আমার ধুমজ্বর এসেছিল।

সেই ইস্তক আমি আর রাত হলে সোমড়া ফিরি না। যুক্তিবোধকে দিয়ে কিছুতেই ভয়কে জয় করতে পারি নি। এখনো মাঝে মাঝে ভাবি, ওটা কি সত্যিই টুনি ছিল না?















Friday, February 6, 2015

মূল্যায়ন



সব কিছুই বিক্রি হয় ,
অল্প কিম্বা বেশি দামে ,
কেউ বিক্রি একটু ভয়ে,
কেউ বিক্রি ত্যাগের নামে |

কেউ বিক্রি ভালবাসায়,
কেউ বিক্রি একটু ক্ষোভে,
কেউ বিক্রি থাকতে ভালো,
কেউ বিক্রি খারাপ লোভে.

কেউ বিক্রি কিনতে গরল,
কেউ বিক্রি ধরতে সুধা,
কেউ বিক্রি হচ্ছে শখে,
কেউ বিক্রি নিভাতে ক্ষুদা|

কবি ও তার হাতের কলম,
করছে বিক্রি যশের নেশায়,
বিক্রি করে স্বপ্ন নেতা ,
ভোট ফুরোলে ডিগবাজি খায় |

আমি ও বিক্রি করতে চাই,
আমার বুদ্ধি, শরীর,মন,
কিনছে না কেউ,দেখছে না কেউ ,
আমায় কারুর নেই প্রয়োজন !!

আমি পারিনি

কত কিছু হবার কথা ছিল, কিন্তু কিছুই হতে পারলাম না।

আঁকার মাষ্টার মশাই বলেছিল, এর হবে, রং এর বোধ এর সহজাত,
অদৃষ্টের সাত রঙের মিশেলে জীবন আজ নিস্তরঙ্গ বর্ণহীন।

ফুটবল মাঠে বল ধরা ছাড়ায় আমি সবার থেকে আলাদা- বলেছিল দেবু দা,
ক্যান্সারের আচমকা ফাউলে দেবুদা আজ তেপান্তরে মাঠ ছাড়িয়ে অনেক দূরে,
ক্যাপ্টেন ছাড়া খেলায় গুনে গুনে দশ গোল খাচ্ছি রোজ।

নমিতা দিদিমনি বলতেন -সোনার টুকরো ছেলে,
পরীক্ষার কষ্ঠি পাথর পর্যন্ত ফারাক করেনি গিলটি সোনায়,
সময়ের স্রোতে রঙ হারিয়ে মূল্যহীন আজ, কেউ ফিরেও দেখে না।

কেউ কেউ ভালোবেসে ছিল,  
কেউ কেউ ভালো ভালো কথা বলেছিল,
কেউ কেউ অনায়াসে করেছিল আশা।

আমিই কথা রাখিনি,
এড়িয়ে গেছি, পালিয়ে গেছি,
দ্বিধা, অবহেলা আর সংকোচে
হেরে গেছি অক্লেশে,
লক্ষ্য  শুধু রেখে, লক্ষ্যহীন ভাসা |

বৃষ্টির সকাল *

বৃষ্টি ঝরে সকালবেলা অঝোরধারায়,
কাঁদছে কি মেঘ সেই সেখানেও তোমার পাড়ায় |
দিনের বেলা মেঘ দিয়েছে সূর্য্য ঢাকা,
ঘরের মাঝে সবার সাথে সবাই একা |

গুন গুন সুরে মেঘ নিয়ে বুকে কেউ করে গান,
সাড়া না মেলায় কারো মনে জমে শুধু অভিমান |
কেউ বা হাসছে বহুদিন পর ছুটির মজায়,
বৃষ্টিকে কেউ, একলা মনের গল্প শোনায় |


আরো যত কালো হয়ে ওঠে আজ অচেনা আকাশ,
হতাশ এর বুকে আশা ভাঙ্গা ঢেউ এ জাগে আশ্বাস,
থেমে যাবে ঝড়, কেটে যাবে এই মেঘের আঁধার,
হবে পরাজয়, ঠিক নিশ্চয়, সকল বাঁধার |