Saturday, May 3, 2025

বন্ধু

আমার একটা বন্ধু আছে,

প্রতিভা ভরপুর,

কথার ফাঁকে কবিতা বানায়,

চলার পথে সুর।

আমার একটা বন্ধু আছে,

লক্ষ্যে সদা স্থির,

হালকা কথার হাসিতে ওড়ায়,

মুহূর্ত গম্ভীর।

আমার আরেক বন্ধু আছে,

গুন্ডা খানিক বটে,

মনের ওপর কথার ঘুষি, 

জাগায় কালশিটে।

হাসি মুখের বন্ধু আরেক,

স্বভাবজাত শান্ত,

পেডিগ্রীতেই যোজন আগে,

কজনই বা জানত।

বন্ধু আছে অনেক রকম,

কেউ দাদা কেউ ভাই,

হাজার গুণের অধিকারী সব,

যেমন তোমার চাই।

তবে, দিনের শেষে বন্ধু সবার,

একলা ঘরের কোণ,

একলা থাকার অভ্যাস আর,

নিজের মুঠোফোন।

Saturday, April 19, 2025

বিজয়ী ভব

লিপস্টিক মাখা ঠোঁট জোড়া চায়,

বাহারি চা এর কাপ,

মাটির ভাঁড়ে বাধ্য চুমুক, তবু

আলগোছে ফেলে ছাপ।

গাড়ি চলে যায়, পড়ে থাকে স্মৃতি,

রঙ ফেরাতেই ক্লান্ত,

রামধনু আঁকা সাদাতে কালোতে,

মুঠোফোন দিকভ্রান্ত।

ব্যবহার শেষে, শেষ সবকিছু,

যতটুকু পরিচয়,

নৌকার মাঝে ব্যবধানে বাড়ে,

দৃঢ়তার অভিনয়।

তবু আশা থাকে, গত অনুরাগে,

পাথরের বুকে কুড়ি,

মুখোশের হাসি, বিশ্বাসী সুখে,

মরা গাঙে ভাসে তরী।

Sunday, December 29, 2024

বাবুই আঠারো

বাবার একটা সূর্য ছিল,
মনের কোণে স্বপ্ন শত,
ছোট্ট ছেলে নিজের তেজে,
কবির মতো হবেই খ্যাত।

মায়ের কোলের ছোট্ট সোনু,
বোঝেনি কেউ ধর্ম'রে তোর,
সোনার মত দেখতে হলেও,
আসলে তুই পরশপাথর।


দাদুর কাছে তিন বছরের,
স্কুল থেকে তুই ফিরতি ঘরে,
এখনও দাদু আঁকতে থাকে,
সে ছবিটাই বারে বারে।

ছোট্ট দাদার হাত ধরে যার,
ছোট্ট পায়ে হাঁটতে শেখা,
বাড়তে থাকা দাদার ছায়ায়, 
তারও শুরু স্বপ্ন  দেখা।

দিদার ছিল বাবুই পাখি,
ফুরুৎ করে উড়ত ঘরে,
সেই পাখিটা ঈগল সমান,
নীল আকাশে একলা ওড়ে।

সেই ছেলেটা আঠেরো আজ,
আকাশ তাকে দিচ্ছে ডাক,
ঝড়ের সাথে লড়াই করে,
বারেবারে তুই জিততে থাক।

Tuesday, September 10, 2024

সস্তার ভাবাবেগ

মা-র সন্মান, মাটিতে লুটায়,
মানুষগুলোই দোষী,
বোঝেনি তারা সূর্পনখা,
মেঘনাদেরই পিসি।

নাকের সাথে কাটা গেছে কান,
দোষ দেখেনা নিজের,
জিভের লাগাম ছিটকে গেছে,
মিথ্যে বড়াই কাজের।

ইন্ধনে তার পাপী রাবণ,
হরণ করে সীতা,
কোথায় গো রাম, আসো এবার,
জ্বালাও এদের চিতা।

আমরা কেবল বানর সেনা,
কাঠবিড়ালির মত,
সাধ্য মতো চেষ্টা শুধুই,
ভোলাতে নিজের ক্ষত।

হাতে হাতে শপথ থাকুক,
জ্বলুক শিখা মনে,
রাজা ঠিকই নামবে নিচে,
দিনের অবসানে।


উৎসবে উল্লাস

উৎসবে ফেরো সবে,
উৎসবে ফেরো,
শব নিয়ে প্রতিবাদে,
হবে শুধু হেরো।

এ আমার চেনা ছক,
শবে উৎসব,
মৃতদেহ কারবারে,
এই বৈভব।

একটি একটি শবে,
খুঁজেছি সোপান,
প্রতিটা সুযোগে আমি,
সেজেছি মহান।

সেই কবে, লালবাড়ি,
চলো দিয়ে হাঁক
মৃতদেহ গুণে গুণে,
শিখেছিনু আঁক।

তারপর বুঝে গেছি,
শবই সব কিছু,
যেখানে পেয়েছি খোঁজ,
গেছি তার পিছু।

লিঙ্গ ধর্ম মতে
কেউ নেই বাদ,
মৃত্যু জীবনে মোর,
আনে আহ্লাদ।

তাপসী বা রিজুয়ানু,
আগুনে বা রেলে,
সামান্য পাস পেয়ে,
ঠেলেছি তা গোলে।

গ্রামে গ্রামে হার্মাদে,
মারে প্রতিবাদী,
ডিভিডেন্ড ঘরে তুলি,
আমি প্রতিবারই।

ঝোপবুঝে কোপ মারি,
মাওবাদী পিঠে,
খ্যাতনামা শবে শোক,
উথলিয়ে ওঠে।

নায়ক, নায়িকা, কবি,
গায়িকা গায়ক,
বিদ্বজনের দেহে,
শকুনের চোখ।

প্রতিপক্ষের হাতে
কেউ গেলে মারা,
প্রতিবাদে ফেটে পড়ি,
থাকে খুব তাড়া।

দলের ছোট্ট ছেলে,
করে যদি ভুল,
কুৎসা রটনা বলে,
আমি সাজি কুল।

এত কেন হাহাকার,
এত কেনো রব?
তোমাদের হাতে শুধু
একখানি শব।

ওদিকে আদালতে,
পক্ষে আমার,
উকিল করেছে খাড়া,
শবের পাহাড়।

ডাক্তার, বিশ্বাস,
মরেনি কি আগে
একমাস যথেষ্ট,
জল ঢালো রাগে।

প্রতিবাদ চলে যাক
লাশ কাটা ঘরে,
চুপি চুপি চুল্লিতে,
দেবো ঠিক ভরে।

ফিরে চলো উৎসবে,
চলো উল্লাস করি,
লাশ নিয়ে রাজনীতি,
থাকুক আমারই।

Tuesday, November 21, 2023

হাসতে থাকো


আজকে না হয় একটু হাসো, সরিয়ে রেখে কষ্ট ক্লেশ,

আজকে নাহয় হাসলে খানিক, ভুলে গিয়ে দ্বন্দ্ব দ্বেষ।

হতেই পারে একটা দিন সব হারানোর গল্প লেখে,

দিনের শেষে হতাশ সেদিন, তোমায় পেয়ে হাসতে শেখে।

কান্না নাহয় বুকেই ঝরুক, ঠোঁটের কোণে আলতো হেসো,

চোখের জল লুকিয়ে রেখে, দুঃখটাকেও ভালোবেসো।

তোমায় নিয়ে হাসলে লোকে, উল্টে হেসে তাদের দেখো,

হাসির স্রোতে সব অপমান, ভাসিয়ে দেবার শক্তি রেখো।


যাবার পথে শেষ বিদায়ে, হাসির ডালা দিও সাজিয়ে,

নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সময়, হাসতে থেকো বুক চিতিয়ে।


ভুল করলে স্বীকার করো, অনুতাপের হাসির সাথে,

হাসির মত হাসলে হাসি, শত্রুরও হাত মিলবে হাতে।


শরীর জুড়ে যখন জ্বালা, অন্ধকারে ডুবছে মন,

চেষ্টা করে হাসলে খানিক, চাঙ্গা হবে খানিকক্ষণ।


দুঃসময়ের শীতল হাসি,ঠেকিয়ে দেয় পিঠ দেওয়ালে,

বিশ্বাসে ভর দিয়ে লড়াই, পাল্টা হাসো জিততে গেলে।

Saturday, January 21, 2023

ঋণ

কিছু কিছু সময় আসে যখন,
চুপ থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ,
নির্বোধে কি মানবে সে কথা,
তাকে কিছুতো বলতেই হবে আজ।

সবের মতই জ্ঞানের বহর কম,
বোঝে না ফারাক ইমনে কল্যাণে,
আল্লারাখা জাগান যে বিস্ময়,
মুগ্ধ তেমন ভীমসেনেরও গানে।

ব্যাগের ভিতর বিশেষণের টান,
যা আছে তা নেহাতই অপ্রতুল,
সুদটুকুই মেটানো দুষ্কর,
স্পর্শ করা যায় না তাতে মূল।

সাধ্য কি তার করবে মূল্যায়ণ,
কেমন করে বোঝাবে মুগ্ধবোধ,
জমছে যে ঋণ প্রতিদিনের শেষে,
কোন উপাচার করতে পারে শোধ।

কোন জন্মের কোন পুণ্যের রেশ,
ভালোবাসারা এমন করে উড়ে,
ধূসর মেঘ সরিয়ে ফুৎকারে,
রামধনু রং উঠলো আকাশ ভরে।