বসন্ত হসন্তের মত নগন্য আজ,
আছে কিন্তু নেই বা না থাকলেও হতো, আজকের এই নেই রাজ্যে।
আজ ফেসবুক জুড়ে পলাশের ছবি নেই,
সন্ধ্যের বাজারে চৈত্রসেলের ভিড় নেই,
শিল্পের প্রদর্শনী নেই, থেমে আছে শিলএর চাকা।
হঠাৎই কত লোকের চাকরি নেই,
রাস্তাঘাটে যানবাহন নেই, নেই স্টেশনে যাত্রীর ভিড়।
নেই ওষুধ, নেই খাদ্য, নেই শিক্ষার আবাহন,
নেই নেতাদের প্রতিশ্রুতি আর ধর্মের বিশ্বাস।
আর কিছুদিন পরে, আমরাও অনেকে নেই হয়ে যাব।
সবাই অপেক্ষায় আছে ঢেউয়ের প্রথম ধাক্কার।
একে একে সে, ও, অমুক - তারপর নাম নয়,
ক্রমিকেই হবে পরিচয়,
এগারো, উনিশ , একত্রিশ,
ধীরে ধীরে সংখ্যাও নগন্য হয়ে যাবে।
যে ভাবে মিছিলের ব্যাপ্তিতে ম্লান হয়ে যায় জনৈক উপস্থিতি।
ভালোভাবে বাঁচা নয়, শুধু বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতায়,
নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে যাব ক্রমাগত, করুণ অবিশ্বাসে।
সামাজিক দূরত্বে বিবর্তিত হবে সামাজিক স্থিতি,
মুছে যাবে দেশ, বর্ণ, ধর্ম, বিত্তের সীমারেখা,
জীবনের বিনিময়ে অন্তেবাসী প্রাণোচ্ছাসে প্লাবিত হবে পৃথিবী।
তারপর বর্ষার আগমনে হয়তো বা পাল্টাবে পাশার দান,
বিবর্ণ প্রানের মাঝে জাগবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস,
যেভাবে দাবানলের ভষ্মস্তূপে মাথা তোলে সবুজ,
যুদ্ধের গ্লানি পেরিয়ে বেজে ওঠে জীবনের সঙ্গীত।